তমোনাশ বাংলা ভাষাসাহিত্য ও ইতিহাসে স্নাতকোত্তর। যুক্ত আছেন ভাষা চর্চার বিষয়ে। বাংলা, হিন্দি, উর্দু, সংস্কৃত ও উর্দুর পর তাঁর এখনকার চর্চা জার্মান ও মারাঠি ভাষা। ভাষাচর্চার মাধ্যমে দুনিয়াব্যাপী জীবনচর্চার মৌলিক একত্ব খুঁজে নিতে চান তমোনাশ।

তিনি বঙ্গীয় সঙ্গীত সমিতি থেকে সঙ্গীত ভাস্কর হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদক পান। চণ্ডীগড় প্রাচীন কলা কেন্দ্র থেকে সঙ্গীত প্রভাকর হিসেবে পান রৌপ্য পদক। এছাড়াও ভারতবিখ্যাত ভাতখান্ডে মিউজিক কলেজের সর্বোচ্চ পরীক্ষা সঙ্গীত নিপুণ পরীক্ষাও তিনি সফলভাবে উত্তীর্ণ।

সাম্প্রতিক লেখা

ছোটগল্প

ইষ্ট-অনিষ্ট

আমরা উৎকর্ণ হয়ে থাকতাম । মা-কাকিমা উদ্বিগ্ন । বাবা-কাকারা কী থাকতেন জানিনা , কিন্তু স্বস্তিতে থাকতেন না এটুকু ঠিক । দোতলা বাড়ি আমাদের । যদিও পলেস্তরাগুলো বাইরের দিকে কিছু কিছু খসেছিল , ভিতর সব ভালই সাফসুতরো ছিল । দুর্গামন্দিরের পেছনে শরিকে শরিকে ভাঙতে ভাঙতে , উঠোন ভেঙে পাঁচিল উঠে , একটা তিনহাত সরু গলি পেরোলে তবে আমাদের সদর দরজা । দু’পাশের সিংহ পেছনদিকে বড় রাস্তার শরিকের ভাগে , দাঁত খিঁচিয়ে কুত্তা । আমাদের সিংহও ছিলনা শুধু সিংহের খসে যাওয়া কটা কেশ নিজের সিন্দুকে পুরে দাদু শ্রীরাম গোস্বামী বিরাজিত ছিলেন । বাবা কাকা দুজনেই কোন সিংহভাগের আশা না করে স্টিল প্লান্ট এর কারখানায় দৈনিক পঁচাত্তর পয়সা রেটে মাটি খোঁড়ার সুপারভাইজারি নিয়েছিলেন । শহর পত্তনের সময় সেই চাকরি মাসে ওভারটাইম নিয়ে ষাট-সত্তর

Read More »
কবিতা

দরজা জানলা

আমার ঘরে একটা দরজা আছেঅপ্রশস্ত, অতি অপ্রশস্ত।আমি প্রায়ই ওটা গলে বাইরে যাই না।বেরোলেই বা কী!!ডাঁয়েবাঁয়ে দুটো গলি,একটা বাথরুমে …শুকনো চৌবাচ্চায় জ্বালানি কাঠ,মরা কাঠের ভাঁজে জ্যান্ত বিছে… আরো কী কী সব!উল্টোটা কুয়োতলায় নামে।কুয়োটার পাঁচিল ভেঙে মুখ থুবড়ে গেছে,বালতি নামে না।খুব বৃষ্টি হলে ,ওরই ভেতর থেকে কটা ব্যাঙ এসে আমার ঘরে পেচ্ছাপ করে যায়!!সামনে দুমানুষ দেয়ালমোটা খরখরে বেরঙ। অনেকদিন হল প্রায় বছর পনেরোআমি অস্ত্র জমাচ্ছি।চামচে দিয়ে শুরু করে আজ গাইতিশাবল।ঘরের দুপাশে দুটো ইঁট খসিয়ে বিসমিল্লাহ করি।তারপর তিনটে আটটাকরে আজ দুদিকেই এবরোখেবড়ো হাত দুয়েক ফাঁকা।দুজনেই হাওয়া চালাচালি করে।এখন চললাম গরাদ আনতে।মাপমত কেটে লম্বালম্বি বসিয়ে দেব।আটকেও দেব।ছোটো হতেও দেব না।

Read More »
ছোটগল্প

আবদ্ধ

সিট  সালা!! সকাল বেলাই মোটাটা এসে বসেছে । একটু দম নিতে পারছিনা । রোজ সকালে ট্রেন থেকে নামবে সবার পেছনে । কেউ তো সামনে আসতেই দেয় না ওটাকে । আটকে দেয় তো পুরো ! শেষে হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে নেমে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়বে । ও ভাবে দৌড়াচ্ছে কিন্তু লোকে মোটেই ভাবেনা । এখন তাও সেই মেশিনের সিঁড়ি হয়েছে , ওতে করে এক নম্বর প্লাটফর্মে নেমে তবে বাইরে আসে । ছুটে এসে ধপ করে বসে পড়ে  । আমি রোজ আড়ে আড়ে তাকাই । ভগবানকে ডাকি । পাশেই দু’চারটে মন্দির নতুন হয়েছে । ‘আজ যেন মালটা না আসে ,  কামাই করে’ । কিন্তু কামাই করে না । হাঁপাতে হাঁপাতে ঠিক আসে । টেরা মাল । কিন্তু ঠিক দেখি একই জায়গায় বসে পড়ে ।

Read More »
ছোটগল্প

লক্ষ্যভেদ

উঠানে দড়াম করিয়া কিছু ভারী জিনিস পড়িবার শব্দ হইল। সংলগ্ন ঘরগুলির মধ্যে ভীষণ গুমোট অন্ধকার চাপিয়া বসিয়া আছে । এমনভাবে আলোকের প্রতিটি প্রবেশদ্বার রুদ্ধ যে শঙ্কা হয় এই ঘরে কোনদিন আলো প্রবেশ করে নাই বা করিবেও না । এই ঘরে যে মানুষ বাস করিতে পারে তাহা কল্পনারও অযোগ্য । কিন্তু মানুষ ছিল । তাহারা কিছুদিন যাবৎ যে আলোককে একটা যমের মত শত্রু ভাবিতেছিল । গ্রামে জাতিদাঙ্গা শুরু হইয়াছে আজ প্রায় মাস তিনেক হইল । পুলিশে পুলিশে চারিদিক ছয়লাপ হইয়া গিয়াছে তাহাও প্রায় মাসখানেক। উঠানের শব্দের খোঁজে একখানি কালো শীর্ণ মুখ ডান দিকের ঘরের দরজা ফাঁক করিয়া বাহির হইল । সে বিপিনের মা । পুলিশের নাইট ডিউটির টহল চলাকালীন একটা অস্পষ্ট কোলাহল সেও শুনিয়া ছিল কিন্তু কিছু ঠাহর করিতে পারে নাই

Read More »
সায়েরি

সায়েরি ২

থক রহা হুঁ ম্যায়কিঁউকি কোই কাম নেহি হ্যায়।ফাড়ে ফাড়ে আঁখে ভি থকি,ফিরভি উনহে কোই আরাম নেহি হ্যায়।বিখরে পড়ে হুয়ে হ্যায় নজারে , খুশবু ,জাম , জুনুন , মোহাব্বত !মেরা কোই শাম নেহি হ্যায়।রাতেঁ তো নিনদোকো জমায়া হুয়া কালে পাত্থরোঁকা নাম হ্যায়।উসমে ভি দরারে আউর ছালে পড় গ্যয়ে হ্যায় হুজুর!শাম যো মায়ুশি, সিদ্বা আউর ইন্তেজারকা হোতি হ্যায়,ইঁহা তো উনকা কোই নামো-নিশান নেহি হ্যায়। سیاری 2   یہیں رہوکیوکی کوئی کام نہیں ہے۔میں پھنس گیا ہوں،پھروی انھے کوئی آرام نہیں ہے۔ہیو ہے بکھر گیا۔ نذر، خوشبو، جام، جنون، محبت!میرا کوئی شام نہیں ہے۔رتن تو ننڈوکو جمایا ہوا کالے پتھرونکا نام ہے۔اسمے وی ڈرارے اور چلے پڑ گئے ہیں حضور!شام یو میوشی، سدوا اور انتظار ہوتی ہے،انہا سے انکا کوئی نامو نشان نہیں ہے۔

Read More »
ছোটগল্প

নিরর্থক

জ্যোৎস্নালোকিত রাত্রিতে কুয়ার ধারে দাঁড়াইয়া সে তাহার তিন মাস সতেরো দিন বয়সী মাজা রংয়ের নধর পুত্রসন্তানটিকে প্রগাঢ় চুম্বন করিল ।  হে প্রাণপ্রিয় সস্তা খেউরের রসিক পাঠক , আমাদের ফট করে ফুটে উঠে ঝপ করে ফুরিয়ে গেল গল্পমালার উনপঞ্চবিংশৎ গল্পে আপনাকে স্বাগত জানাই । এ গল্প এমন একটি মেয়ের দাঁত ওঠার আগে যার নামকরণ হয়নি । নগা মন্ডলের ষষ্ঠ কন্যার নামের প্রয়োজন বহুদিন অনুভূত হয়নি । কারণ কেউ তাকে ডাকতো না । দাদু ঠাকমা তার বহু আগে জগত মদ্যের মায়া ত্যাগ করায় আদর করার কেউ অবশিষ্ট ছিল না । তাই শোয়া থেকে উল্টোনো , উল্টোনো  থেকে কুক্কুরীমুদ্রা , কুক্কুরীমুদ্রা থেকে হামাগুড়ি হয়ে হাঁটা পর্যন্ত তার মা ভিন্ন কেউ খেয়াল করলো না । খেয়াল করলো দাঁত ওঠার সময় । উপরের মাড়ির সামনের

Read More »
© 2024 Tamonash Chattopadhyay
Designed with Love by ArtFolio